“ভূমিকম্পে জীবন ও সম্পদ রক্ষায় করণীয়” শীর্ষক সেমিনার
- ADAB
- January 14, 2026
- 2:35 pm
- No Comments
এডাব (এসোসিয়েশন অব ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিজ ইন বাংলাদেশ) এবং বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)-এর যৌথ উদ্যোগে ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ রোজ বুধবার, সকাল ১০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে “ভূমিকম্পে জীবন ও সম্পদ রক্ষায় করণীয়” শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এডাব-এর চেয়ারপারসন জনাব আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ও এডাব পরিচালক জনাব একেএম জসীম উদ্দিনের সঞ্চালনায় সেমিনারে ধারনাাপত্র উপস্থাপন করেন ক্যাপস এর সভাপতি অধ্যাপক ড. আহমাদ কামরুজ্জামান মজুমদার এবং ভূমিকম্পের কারিগরী বিষয়সমূহের উপর মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন করেন, ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ এর সাবেক পরিচালক অপারেশন মেজর (অব:) শাকিল নেওয়াজ।
আলোচনায় বক্তারা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভুতাত্ত্বিকভাবে ভূমিকম্প ঝুকিতে রয়েছে। ভূমিকম্প প্রাকৃতিক বিষয় যা প্রতিনিয়ত হয়। ভূমিকম্প হবেই, কখন হবে সেটাও জানি না। বাংলাদেশের চেয়ে বহু ঝুকিপূর্ণ দেশ আছে। কিন্তু ভূমিকম্প মোকাবেলায় বাংলাদেশ একেবারেই অপ্রস্তুত। ভবন নির্মান বিধিমালা অনুসরণ না করে বহুতল ভবন নির্মান, গ্লাস বিল্ডিং তৈরী, অধিক ঘনবসতি, পানির লেয়ার কমে যাওয়া, ভবনে বিকল্প বর্হিগমণ পথ না থাকা, নরম পলিমাটিতে রাস্তা ও ভবন নির্মাণ, দুর্নীতি, মানুষের ভূমিকম্প সম্পর্কে অসচেতনতা, কু সংস্কার ইত্যাদি বিষয়সমূহ ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।
ভূমিকম্প হলে গ্রামের চেয়ে শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে। ঢাকা শহরে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ১০ লক্ষের অধিক ভবন ধ্বসে পড়বে, তিন ভাগের দুইভাগ লোক মারা যেতে পারে। মরদেহ সরাতে, আহতদের হাসপাতালে নিতে, উদ্ধারকার্য সম্পাদনের জন্য জরুরি ব্যবস্থাপনা অপ্রতুল। হাসপাতালে ডাক্তার, রোগীসহ সবাই মারা যেতে পারে। গ্যাস, পানির লাইন ফেটে যাবে, বিদ্যুৎ লাইন, কমিউনিকেশন লাইন কাজ করবে না। রাস্তাঘাট ভেঙে পড়বে, অগ্নিকান্ড সংঘটিত হতে পারে, ভবন ধ্বসে রাস্তা চলাচল অনুপযোগী হবে, ভবন দেবে যেতে পারে। ফায়ার সার্ভিস, উদ্ধার কর্মী আসতে পারবে না। আগুণ নিভানোর পানি পাওয়া যাবে না।
“নিজেদের খোড়া কবরের মধ্যে আমরা বসবাস করছি” উল্লেখ করে ভূমিকম্পের ভয়বহতা থেকে বাঁচতে আমাদের নিজেদেরই সচেতনতার উপর গুরুত্বারোপ করে বক্তারা ভূমিকম্পের আগে, ভূমিকম্পের সময়ে এবং ভূমিকম্পের পরবর্তী সময়ে করণীয় বিষয়ে ব্যক্তিগত পারিবারিক, কমিউনিটি, অঞ্চালিক, রাস্ট্রীয় জরুরি পরিকল্পনা তৈরী করে সমন্বিতভাবে কমিউনিটি, স্থানীয় সরকার ও জাতীয় সরকার, প্রশাসন কাজ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। করণীয় হিসেবে, দুর্যোগ মোকাবেলায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে সংস্কার করার পরিকল্পনা করা; সিভিল ডিফেন্স শক্তিশালী করা; কমিউনিটি ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, কমিউনিটি ভলান্টিয়ার তৈরী; স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা; কমিশনার, পৌর করপোরেশনকে দায়িত্ব দেওয়া; কমিউনিটি ভিত্তিক তথ্য হাব তৈরী, ভবন নির্মান বিধিমালা মেনে চলা; ভূমিকম্পে করণীয় বিষয়ে পরিবেশবিদ, মিডিয়া, এনজিও স্থানীয় পর্যায়ে, বাড়ী-বাড়ী, স্কুল কলেজে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, প্রচারণা করা; ট্রমা মোকাবেলায় হাসপাতালের সাথে সাইকেসোসাল কার্যক্রম পরিচালনা; রাস্তা, পানি, পানির উৎস পরিস্কার রাখা, বৃষ্টির পানি ধরে রাখা; জিওলোজিক্যাল সার্ভে ডিপার্টমেন্টকে সার্ভে করার জন্য ক্ষমতায়িত করা, রিসোর্স দেয়া; সঠিক জায়গায় যোগ্য লোক বসানো; ভূমিকম্প বিষয়ে কুসংস্কার এর বিপরীতে জনসচেতন তৈরী করার উপর জোর দেয়া।
ভূমিকম্প প্রাকৃতিক হলেও ক্ষয়ক্ষতি, মৃত্যুর কারণসমূহ মনুষ্যসৃষ্ট। সেগুলোর সমাধান করতে দরকার রাজনৈতিক অংগীকার। জনগন সকল ক্ষমতার উৎস উল্লেখ করে বক্তারা, সংঘবদ্ধ হয়ে রাস্ট্রকে চাপ দিয়ে তার দায়িত্ব পালন করার পরিবেশ তৈরী করার কথা বলেন। সভায় বক্তারা ধনী গরীর সবার জীবনের মূল্য সমান বিবেচনা করে সবার জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার অংগীকার করেন।
অন্যান্যদের মধ্যে আলোচক হিসাবে ছিলেন যথাক্রমে অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান, সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্স (বিআইপি); ওয়াহিদা বানু, নির্বাহী পরিচালক, অপরাজেয় বাংলাদেশ এবং মানবাধিকার ও সমাজকর্মী; গওহর নাঈম ওয়ারা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ, প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক, ডিজাস্টার ফোরাম (ডিএফ); ড. মোঃ খালেকুজ্জামান, অধ্যাপক, ভূতত্ত্ব ও পরিবেশ বিজ্ঞান, কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি অব পেনসিল্ভানিয়া, ইউএসএ।
প্রোগ্রামের কিছু মিডিয়া কভারেজ: